কসিদ্ধান্ত নিয়েছি, হোমিও ওষুধ আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ খাবো।

এটা খেলে নাকি করোনা হয় না। অনেকেই খাচ্ছে। তাই আমিও খাবো। খাওয়ার আগে আসুন জেনে নেই, কিভাবে বানায় এই আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০?

মুল উপাদান আর্সেনিয়াস এসিড এবং বিশুদ্ধ পানি।

[ পানিঃ আর্সেনিয়াস এসিড = ৯৯ঃ১]।

অর্থাৎ ১ লিটার বিশুদ্ধ পানিতে মাত্র ৯ গ্রাম আর্সেনিয়াস এসিড মেশানো হবে।

তারপর সেটা ফুটানো হবে, (কতক্ষন সময়, জানি না)। ফোটানোর মাধ্যমে এসিড টা বাষ্পীভুত করা হবে।

এর পর যে টুকু পানি অবশিষ্ট থাকবে, সেই পানিকে ১ ভাগ ধরে এর সাথে আরো ৯৯ ভাগ স্পিরিট মেশানো হবে। ধরুন পানি অবশিষ্ট রইলো ০.৫ লিটার। তাহলে এর সাথে স্পিরিট মেশানো হবে ৪৯.৫ লিটার।

[ পানিঃ স্পিরিট = ১ঃ৯৯]

মানে আমরা পেয়ে গেলান ৫০ লিটার আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ ওষুধ।

বলা হচ্ছে এই ওষুধ টি ১০০ মিলি পানি তে মাত্র ৩ ফোটা মিশিয়ে খেতে হবে। তাও মাত্র মাসে মাত্র ২ ডোজ।

এটা খেলে নাকি করোনা ভাইরাস এ্যাটাক হবেনা, মানে শরীরে ইমিউনি সিস্টেম বৃদ্ধি পাবে সেসব লক্ষন ভিক্তিক রোগের বিরুদ্ধে, যেসব লক্ষন করোনা রোগ হলে দেখা যায়।

আর কারো যদি করোনা হয়েও যায়, সে এটা খেলে সুস্থ হয়ে যাবেন।

ব্যাক্তিগত ভাবে আমি হোমিওপ্যাথিকে ৯৮ শতাংশ প্লেসিবো নির্ভর চিকিতসা ব্যবস্থা মনে করি। বাকি ২ শতাংশ ওষুধের গুনাগুন।

যদিও আমার লাইফ হিস্ট্রিতে হোমিওতে আরোগ্য হওয়ার রেকর্ড আছে, ৩ বছর বয়সে। যখন একটা বাচ্চার প্লেসিবো বুঝার মত জ্ঞান থাকার কথা না।

বেশ কয়েকজন হোমিওপ্যাথ এর সাথে আমি যোগাযোগ করেছি, তাদের কেউ কেউ আমাকে রোগ হওয়ার আগে এটা খেতে নিষেধ করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, রোগ হওয়ার আগে খেলে রোগ হবেনা, আর হওয়ার পর খেলে সেরে যাবে।

আমি বিজ্ঞান কম বুঝি। এ কারনেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিজ্ঞান পড়েও ব্যাচেলর করেছি বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে।

তবে যতটুকু বুঝি, তাতে আমার কাছে মনে হয়, যে প্রসেসে আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ তৈরি করা হয়েছে, এখন যদি এই ওষুধ ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়, তবে এতে স্পিরিট আর পানি বাদে আর্সেনিক এর কোন উপস্থিতিই পাওয়া যাবেনা।

আর্সেনিক কে দেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান বলা হয়। তবে বডিতে এটার ও সহনীয় মাত্রা আছে। অনেক মানুষ আর্সেনিক যুক্ত কলের পানি খেয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, সুস্থ ও হয়েছেন।

তাহলে এই আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০, যার ভেতরে আদৌতে কোন আর্সেনিক আছে কিনা, সন্দেহ আছে। এটা খেলে কি এমন ক্ষতি হবে?

অথবা প্রশ্ন করতে পারেন, উপকার টাই বা কি হবে? অযথা পয়সা নস্ট।

আমার এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে, ২০০ টাকা আমার জন্য খুব একটা বড় ইসু না। আর যার মাঝে আর্সেনিকই নাই, তার আবার ক্ষতি কি?

তবে হ্যা, স্পিরিট যেহেতু এলকোহল জাতীয় দ্রব্য, এটাতে কিছু ক্ষতি হলে হতেও পারে। তবে ৬ ফোটা স্পিরিট এর সাথে ২০০ মিঃলিঃ পানি মেশালে সেটাইতেই বা স্পিরিট এর কি গুনাগুন থাকবে?

আল্লাহ মালুম!

তাহলে কেন খাবো এই ওষধ?

উত্তর হচ্ছে; অন্ধ বিশ্বাস। বিশ্বাসে বিষ ও পানি হয়।
প্লেসিবোর অপর নাম বিশ্বাস। বিশ্বাস মনে সাহস যোগায়, আশা জাগায়, ভরসা তৈরি করে।

সাহস, আশা, ভরসা ইমিউনি সিস্টেম ডেভলপ করে, এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত সত্য।

আর ইমিউনি সিস্টেম যদি ডেভলপ করেই থাকে, তাহলে করোনা কাবু হবেই।

তবে হ্যা, আল্লাহ না করুক, আমার মাঝে কোন লক্ষন দেখা দিলে আমি এলোপ্যাথিও খাবো।

হায়াতের মালিক আল্লাহ।

দিক বিভ্রান্ত হয়ে না হয় একট ভুল কাজ করেই ফেললাম।

আল্লাহ ভরসা।

আমার বন্ধু তালিকায় অনেক এলোপ্যাথ ডাক্তার আছেন, অনেক হোমিওপ্যাথ ও আছেন।

আপনারা চাইলে আপনাদের মতামত দিতে পারেন। কোথাও ভুল কিছু লিখে থাকলে ধরিয়ে দিতে পারেন।

Leave a Reply