BlogTech

ডিজিটাল পরিচয়পত্র কি অপরিহার্য হয়ে উঠছে ?

তবে সারা বিশ্বে এখনো ১০০ কোটি মানুষের ডিজিটাল আইডি নেই, যার কারণে তাঁরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই ১০০ কোটি মানুষের অর্ধেকই আফ্রিকার বাসিন্দা।

54 / 100 SEO Score

বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের দুস্থ জনগণকে দুঃসময়ে অর্থনৈতিক ও অন্যান্যভাবে কতটুকু সহায়তা করার মুরোদ রাখে, তা কোভিড-১৯ প্রমাণ করে দিয়েছে। এই মহামারি মোকাবিলায় যদিও দুই শতাধিক দেশ ও ভূখণ্ড তাদের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। কোনো কোনো দেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করেছে। কিন্তু এসব দেশের বেশির ভাগই অনানুষ্ঠানিক বা অনিবন্ধিত নাগরিকদের তথ্য না থাকায় তাঁদের সহায়তা প্রকল্পে নিতে পারেনি। নাগরিকদের যথাযথ তথ্য–উপাত্ত না থাকার কারণে সামাজিক দূরত্ব এবং কোয়ারেন্টিন–সংক্রান্ত নজরদারি করাও দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।

তবে অল্পসংখ্যক যেসব দেশে ডিজিটাল আইডি বা পরিচয়পত্র চালু আছে, সেসব দেশে দুরবস্থায় পড়া নাগরিকদের শনাক্ত করা সহজ হয়েছে এবং দ্রুত তাঁদের কাছে নগদ সহায়তা পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল আইডি থাকার কারণে সেখানে প্রত্যন্ত এলাকার গরিব নারী, শিশু ও শরণার্থীদের কাছে সাহায্য পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

যেমন ডিজিটাল আইডি পদ্ধতির কল্যাণে চিলি সরকার দ্রুত সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করে তাদের সর্বশেষ অবস্থা কেমন আছে তা যাচাই করতে পেরেছে। এরপর সে অনুযায়ী তারা ভুক্তভোগীদের সহায়তা দিয়েছে। সে দেশে কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অনলাইনে সরকারের কাছে বিশেষ সহায়তার আবেদন করতে পেরেছেন। থাইল্যান্ডে ২ কোটি ৮০ লাখ লোক মহামারির ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে অনলাইনে আবেদন করেছেন। ডিজিটাল আইডি থাকার সুবাদে সরকার দ্রুত তাঁদের আবেদনপত্র যাচাই করতে পেরেছে এবং সে অনুযায়ী সহায়তা দিয়েছে। ডিজিটাল আইডি থাকার কারণে ভারত সরকার ২০ কোটির বেশি নারীকে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ পাঠাতে পেরেছে।

তবে দুর্দশায় পড়া মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল আইডিই শেষ কথা নয়। এর পাশাপাশি জনগণের কাছে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় পৌঁছানোর ডিজিটাল অবকাঠামো থাকাও জরুরি। যেখানে সেই অবকাঠামো আছে, সেখানেই ডিজিটাল আইডির সুবিধা ঠিকঠাক কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ডেটা গভর্ন্যান্স উন্নত হলে এই আইডির সর্বাত্মক উপযোগিতা নিশ্চিত করা যাবে।

ডিজিটাল আইডি, ডিজিটাল লেনদেন এবং ডেটা গভর্ন্যান্স—এগুলো প্রতিটিই এককভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সমন্বয় করা গেলে বড় ধরনের জনকল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। বিংশ শতকে যেমন সড়ক ও রেলযোগাযোগ মানবসভ্যতা বিকাশের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয় ছিল, এই একুশ শতকে এই তিন বিষয়ের সমন্বয় ততটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। এই তিনটির সমন্বয় থাকলে বহু সমস্যার সহজ সমাধান পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের কথা বলা যেতে পারে। এই দুটি দেশে উন্নত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম চালু আছে। এতে সেখানকার নাগরিকেরা সরকারি ও বেসরকারি খাতের সব ধরনের সেবা সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। এ কারণে সেখানে করোনা মহামারির অভিঘাত অনেকখানিই দ্রুত সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

যেহেতু ডিজিটালাইজেশন প্রতি মুহূর্তে উন্নত ধাপে এগোচ্ছে, সেহেতু উপাত্ত সুরক্ষার বিষয়টিও দিন দিন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থাপনা যদি দুর্বল হয়, তাহলে যেকোনো সময় সরকারি সার্ভার থেকে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য–উপাত্ত তৃতীয় পক্ষ চুরি করতে পারে। এটি ব্যক্তি থেকে জাতীয় পর্যায়ে বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।

ডিজিটাল আইডি সিস্টেমকে যদি সুরক্ষিত অবস্থায় নেওয়া যায়, তাহলে সেই আইডিতে সরকারি কাজে সব সময় দরকার হয় এমন সব ধরনের তথ্য–উপাত্ত জুড়ে দেওয়া যায়। এতে একটি আইডি থেকেই সব ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সহজেই কাজ চালিয়ে দেওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স এ ক্ষেত্রে বহু এগিয়ে রয়েছে।

সারা বিশ্বে এখনো ১০০ কোটি মানুষের ডিজিটাল আইডি নেই, যার কারণে তাঁরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই ১০০ কোটি মানুষের অর্ধেকই আফ্রিকার বাসিন্দা।

বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার ব্যয়ে আইডেন্টিফিকেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আইডিফরডি) শীর্ষক একটি প্রকল্প শুরু করেছে। এর আওতায় ৩০টি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের ডিজিটাল আইডি দেওয়া হবে। এটি বৈশ্বিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে হচ্ছে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!