কাস্টমার প্রতিটি কোম্পানির হার্ট বা অক্সিজেন। কোম্পানী টিকে থাকে এবং সামনে আগায় কাস্টমারের অর্থের উপর ভর করে। তাই কাস্টমার প্রতিটি কোম্পানির জন্যে অমূল্য। তাদের চাহিদা বুঝে প্রোডাক্ট ও সেবা দিতে হয় এবং প্রোডাক্টের মার্কেট চাহিদাও তৈরি করতে হয়।

একটা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ডেভেলপ করতে হয় কাস্টমারের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে। কাস্টমার মূলত প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ক্রয় করে না, তারা ক্রয় করে সমস্যার সমাধান। তাই কাস্টমারের সমস্যা বুঝতে মিশতে-চলতে হবে তাদের সাথে। কাস্টমারদের সাথে যত বেশি মেশা যাবে তত বেশি তাদের সমস্যা খুজে বের করা যাবে।

যেকোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস মার্কেটে লঞ্চ করার পূর্বে কাস্টমার অর্থাৎ প্রোডাক্টের চাহিদা তৈরির দিকে ফোকাস করতে হবে। নতুবা কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সামনে আগাবে না। উদাহরণ হিসেবে নাজির উদ্দিন ভাইকে ব্যবহার করতে পারি। ক্লাবমিক্স রেস্টুরেন্টে ওনি বিনামূল্যে বগুড়ার দই (কাপ) খাইয়েছেন উপস্থিত মেম্বারদের। দই খাওয়ার পর কাকলী রাসেল তালুকদার আপু সহ অন্যান্য কয়েকজন দই অর্ডার করে এবং ডেলিভারি পেয়ে রিভিউ দেয়। এরপর থেক শুধু সামনেই আগাচ্ছে নাজির উদ্দিন ভাইয়ের দই।

আমাদের আশেপাশে অনেক উদ্যোক্তা আছে যারা উদ্যোগ নেওয়ার পর শোরুম দেয় এবং নিজের পছন্দমত প্রোডাক্ট স্টক করে ফেসবুকে বা গুগলে মার্কেটিং করা শুরু করে এবং আশানুরূপ সাফল্য না পেয়ে হাতাশ হয়ে উঠে। পক্ষান্তরে মনিকা আহমেদ আপু কাস্টমার বেইসড তৈরি করার ফলে প্রোডাক্ট তৈরি করার পূর্বেই বিক্রি হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর হেবাং রেস্টুরেন্টে বসে রাজিব আহমেদ স্যার থেকে আইডিয়া পায় ৩২ টি শাড়ি বিক্রি করার এবং ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৩২ টি শাড়ি বুকড হয়। তা সম্ভব হয়েছে কাস্টমার বেইসড ও চাহিদা তৈরি করায়।

মনিকা আহমেদ আপু উদ্যোগ শুরু করার কয়েক মাসের মাথায় শোরুম ও স্টক করে মোটা অংক লস দিয়ে হতাশ হয়। শুধু মাত্র কাস্টমার তৈরি না থাকায়। আর বর্তমানে কাস্টমার বেইসড থাকায় প্রোডাক্ট উৎপাদনের পূর্বে বিক্রি হয়।

সালমা নেহা আপু কোনপ্রকার মার্কেটিং খরচ ছাড়াই শুধু পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং দিয়ে কাস্টমার বেইসড তৈরি করেছেন। এরফলে ওনি যেকোন পণ্য মার্কেটে নিয়ে আসার পূর্বে প্রি-অর্ডার পেয়ে একই ফিল্ডের অন্য উদ্যোক্তাদের ছাড়িয়ে যায়। যেটা আমরা আমের সৃজনে দেখেছি। সর্বশেষ ডিসেম্বর দেখেছি শালে।

আমরা যদি লক্ষ্য করি একবছর আগেও দেশি পণ্যের চাহিদা ছিল না অনলাইনে। রাজিব আহমেদ স্যারের চেষ্টায় ফেসবুকে চাহিদা তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে সারাদেশে। একদিন বা দুইদিন বিক্রি হয়েই বন্ধ হয়নি বরং দিনে দিনে প্রচার, প্রসার ও ব্যবহার বাড়ছে দেশি পণ্য।

প্রোডাক্টসের চাহিদা তৈরি করতে পারলে সৌখিন বা নিত্য প্রয়োজনীয় বিক্রি ও ব্যবহার করানো যায়।

মোঃ দেলায়ার হোসেন

By admin