প্রত্যেক টি প্রোডাক্ট ও সার্ভিস তৈরি করা হয় নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভোক্তাদের কেন্দ্র করে। এই নির্দিষ্ট শ্রেণীর ক্রেতারা ঐ প্রোডাক্ট ও সার্ভিসের টার্গেট কাস্টমার। এই শ্রেণীর ক্রেতাদের যত প্যাসিফিক ভাবে চিহ্নিত করা যাবে তাদের চাহিদা বুঝে তত বেশি সেবা যোগ করা যাবে।

কাস্টমারের রুচি, চাহিদা ও খরচের সক্ষমতা বুঝতে টার্গেট কাস্টমার চিহ্নিত করতে হয়। এছাড়াও ফলপ্রসূ মার্কেটিং, রুচি ও চাহিদা রিসার্স এবং বিক্রয়ের জন্য টার্গেট কাস্টমার চিনতে হয়। যে কোম্পানী এ কাজটি যত ভালো ভাবে করতে পারবে ঐ কোম্পানী তত বেশি সাফল্যের সাথে সামনে আগাতে সক্ষম হবে।

টার্গেট কাস্টমার বের করতে হয় অনেক কিছু চিন্তা করে। যেমন- বয়স, লিঙ্গ, ভৌগলিক অবস্থা, আয়, মৌসম ইত্যাদি। আমরা যদি উদাহরণ দিয়ে দেখি, চলমান শীত মৌসমে হাত পাখার মার্কেটিং করলে তার সুফল দেখা দুষ্কর হবে। তেমনি জামদানি, হাফ সিল্ক সহ অন্যান্য শাড়ীর মার্কেটিং তরুণদের কাছে করলে নিরাশ হতে হবে উৎপাদক কোম্পানীর।

কাস্টমারের রুচি, চাহিদা ও আয় বুঝে প্রোডাক্ট ও সার্ভিস ডেভেলপ করতে হয়। নতুবা তাদের ইচ্ছা থাকলে ভোগ করতে পারবে না। তবে অধিকাংশ দেশি পণ্যের দাম সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় যে কেউ চাইলে কেনাকাটা করতে পারে। তাই বলে দেশি পণ্যের উদ্যোক্তারা সবাইকে কেন্দ্র করে মার্কেটিং করলে বাজেট বেশি ব্যায় হবে কিন্তু ফলাফল আসবে কম।

অনেক সময় উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বললে উত্তর পাওয়া যায় ”সবাই তাদের টার্গেট কাস্টমার”। একজন রুটি বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারছি, ”সকল শ্রেণীর মানুষ তার টার্গেট কাস্টমার। তার মতে, ছোট থেকে বড় সবাই রুটি খেতে পারে বা খায়।”

আমার মতে একজন বিক্রেতা হিসেবে চিন্তার মডিফাই করা দরকার। কারণ সবাই রুটি খেলেও কিনবে না। অর্থাৎ সবাই নিয়মিত রুটি খায় না, সবাই রুটি কিনে না বা কিনবে না। ঐ রুটি বিক্রেতা যেহেতু ঢাকায় থাকেন তাই তিনি নির্দিষ্ট এরিয়ার কিছু পরিবার টার্গেট করে দেখতে পারে রাতের বেলায় কারা কারা নিয়মিত রুটি খায় এবং কাদের বাসায় নিয়মিত রুটি বানানোর মতো লোক নাই.. ইত্যাদি।

ফেসবুকে শুধু ডায়বেটিকস রোগীদের লক্ষ্য করে রুটির পোস্ট দেওয়া যেতে পারে এবং সেখানে যারা কমেন্ট করে তাদের প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করে বা তাদের সাথে যোগাযোগ করে টার্গেট কাস্টমার নির্বাচন করা যেতে পারে।

মোঃ দেলোয়ার হোসেন

By admin