জীবনের প্রতিটি অধ্যায় এগিয়ে যেতে প্রয়োজন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা। ই-কমার্সও তার বাহিরে নয়। ই-কমার্স কে বলা হয় শিক্ষিত লোকের ব্যবসা। কারণ প্রথাগত অন্যান্য ব্যবসায় লেখাপাড়া না জেনে করা গেলেও ই-কমার্স পরিচালনা করা যায় না লেখাপড়া ছাড়া।

ই-কমার্স বিজনেসের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হয় টেকনোলজি ব্যবহার করে। সাময়ের সাথে সাথে আপডেট হয় টেকনোলজির ব্যবহার। তাই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ হতে হয় ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ই-কমার্স নিয়ে কোন কোর্স বা সাবজেক্ট না থাকায় নিজেদের দক্ষ করতে হয় ই-লার্নিং তথা ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

সাধারণত ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেখাপড়া বলতে ই-লার্নিং বুঝি। যেকেউ যেকোন স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেখাপড়া করতে পারে বিনামূল্যে। যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ফ্রি বা পেইড কোর্স (কনটেন্ট তৈরি) চালু করতে পারে দ্রুত সময়ে। এর জন্য প্রয়োজন নেই কারো অনুমোদন। কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয় চাইলেও দ্রুত সাবজেক্ট বের করতে পারে না। এর জন্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন। তাছাড়াও কোন বই দ্রুত সংস্করণ করা যায় না।

ই-লার্নিং এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন স্থান থেকে লেখাপড়া করা যায় এবং ডিগ্রি নেওয়া যায়। করোনা মহামারিতে বিশ্ব বিখ্যাত ই-লার্নিং প্লাটফর্ম কোর্সেরার মাধ্যমে বিভিন্ন কোর্স করে নিজেদেরে এগিয়ে নিয়েছে উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) এর উদ্যোক্তারা। তারা নিজ নিজ বাসা থেকে সুযোগ পেয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স করার। যদি এ কোর্স গুলো করতে উদ্যোক্তাদের সরাসরি বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হতো তাহলে বিপুল অর্থ ও সময় প্রয়োজন হতো।

ই-কমার্স উদ্যোক্তারা চাইলেও নিজের ব্যবসা বন্ধ রেখে দীর্ঘ শেখার পিছনে সময় ব্যয় করতে পারবে না। তাই নিজেদের আপডেট করতে ই-লার্নিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কোন সাবজেক্ট বা কোর্স না থাকায় ই-কমার্সের উপর নিজেদের দক্ষ করার সুযোগ পায়নি কোন শিক্ষার্থী। উদ্যোক্তারা বিভিন্ন জেলা বা উপজেলার হওয়ায় এবং বিভিন্ন বয়সের কারণে ই-লার্নিং এর মাধ্যমে খুব সহজে নিজেদের দক্ষ করার সুযোগ পাচ্ছে।

আমরা যদি ডিজিটাল স্কিলস ফর বাংলাদেশ গ্রুপের কথা উল্লেখ করি, এখানে প্রায় পাঁচ লাখ মেম্বার রয়েছে দেশ ও দেশের বাহির থেকে। পত্যেকে নিজ নিজ প্রয়োজনীয় কনটেন্ট সার্চ করে দক্ষতা অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে। অন্য দিকে উদ্যোক্তারাও তাদের উদ্যোগ পরিচালনা, পণ্যে দাম নির্ধারণ, কাস্টমার তৈরি ও খাতির, পেজ ওয়েবসাইট ‍পরিচালনা সহ প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের এগিয়ে নিচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে না এডমিশন, পরিক্ষা, ফি, নির্দিষ্ট সময়ে একই স্থানে সমবেত হওয়া সহ কোন কিছুই। কিন্তু সিরিয়াস ভাবে যারা চেষ্টা করতেছে তারা শুধু সামনে আগাচ্ছে। সাথে ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কিংও ডেভেলপ হচ্ছে।

লক্ষ্য করলে দেখা যায় দেশি পণ্যের সিংহভাগ উদ্যোক্তাই ’নারী’। তাদের পরিবার, সন্তান, পারিবারি বাঁধা সহ অনেক ঝামেলা রয়েছে। এতো কিছু সামাল দিয়ে তাদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করে নিজেদের দক্ষ করা সম্ভব হয়ে উঠবে না তাই তাদের জন্য ই-লার্নিং সবচেয়ে সুবিধাজনক।

কোভিড-১৯ এর কারণ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও বন্ধ হয়নি ই-লার্নিং এর মাধ্যমে লেখাপড়া। পুরো সময় টা দক্ষতা অর্জনে ব্যয় করেছে অনেক উদ্যোক্তা। শিখে শিখে নিজ উদ্যোগ সাজিয়েছে নতুন রূপে।

মোঃ দেলোয়ার হোসেন

By admin